অনলাইন ডেস্ক:
কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লার চান্দিনা, বুড়িচং ও চৌদ্দগ্রাম এলাকায় কিশোর গ্যাং, মাদক ও অস্ত্র সংশ্লিষ্টতার অভিযোগকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে চান্দিনার কিশোর গ্যাং লিডার ক্ষ্যাত তন্ময় হিমেল চান্দিনা পৌর যুবদল নেতা ও পৌর মেয়র প্রার্থী হাজী নুরু মুন্সি জামাতা তন্ময় হিমেলের সঙ্গে বুড়িচং ও চৌদ্দগ্রামের কয়েকজন ব্যক্তির যোগাযোগ, ওঠা-বসা ও যোগসাজশ আছে, এইটা নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা ছড়িয়ে পড়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ উঠেছে যে, বুড়িচং উপজেলার সাবেক মাদক কারবারি ও সমন্বয়ক হিসেবে পরিচিত তানিমের সঙ্গে তন্ময় হিমেলের যোগাযোগ রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন পোস্টে তানিমকে ছাত্রদল নেতা হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া আরও অভিযোগ ছড়ানো হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে, চান্দিনার বিভিন্ন প্রচারণামূলক কর্মসূচিতে উঠতি বয়সের কিশোর-তরুণদের কথিত "বাইক শোডাউন"- এ অংশগ্রহণের জন্য কট্রাক করে লোকজন সরবরাহ করে, পাশাপাশি উঠতি বয়সী বখাটে ও কিশোর গ্যাংয়ের পোলাপানদেকে সেল্টার দেওয়া, আস্রয় দেওয়া, এলাকা ভিত্তিক মাদকের এজেন্ট , ছিচকে চুরি ও ছিনতাই এগুলোর প্রধান নিয়ন্ত্রণ কারী হিসেবে ও তন্ময় হিমেলের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে অভিযোগ ছড়ানো হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, তানিমের সঙ্গে থাকা ছবিতে দেখা যাওয়া অপর এক ব্যক্তিকে নিয়েও বিভিন্ন অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, ওই ব্যক্তি চৌদ্দগ্রাম এলাকায় মাদক ও অস্ত্রের প্রচার বা কারবারের সঙ্গে জড়িত। এ ঘটনায় তিনি প্রায় দুই মাস কারাভোগের পর বর্তমানে জামিনে রয়েছেন বলেও দাবি করা হচ্ছে। তবে আদালতের নথি বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রে এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় পর্যায়ে এসব অভিযোগকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন উঠেছে—আইনের ঊর্ধ্বে কি কেউ?
তবে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদক, অস্ত্র কিংবা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠলেই তা অপরাধ প্রমাণিত হয় না। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে প্রয়োজন সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া।
সচেতন মহলের দাবি তুলেছে, তানিম কিংবা তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদক, অস্ত্র বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিষয়ে যদি সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ থাকে, তাহলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উচিত বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করা এবং প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া।
একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অভিযোগ ও বিভিন্ন ব্যক্তির বিরুদ্ধে করা দাবিগুলো যাচাই না করে প্রচার না করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
সে কারনে মাদক, অস্ত্র ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে দল-মত নির্বিশেষে আইন প্রয়োগ এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
তথ্যসূত্র: চান্দিনা নিউজ ২৪