
নিজেকে ব্যারিস্টার হিসেবে পরিচয়, বাংলাদেশে বার কাউন্সিলের প্রথম ধাপ পাস এবং জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ে লিগ্যাল অফিসার—জাইমা রহমানকে ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে চলছে নানা আলোচনা। তবে কোনটি প্রতিষ্ঠিত তথ্য, আর কোনটি রাজনৈতিক অভিযোগ? অনুসন্ধানে মিলেছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও প্রশ্ন।
নিজস্ব প্রতিবেদক | অনলাইন ডেস্ক
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমানকে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ে (Office of the President of the General Assembly—OPGA) Legal Officer হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। জাতিসংঘের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটেও তার নাম, পদ এবং বাংলাদেশি পরিচয় প্রকাশ করা হয়েছে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, জাইমা রহমান আইন ও নীতিবিষয়ক পেশাজীবী। তিনি লন্ডনের Queen Mary University থেকে Law and Politics বিষয়ে LLB করেছেন এবং England and Wales-এ Inner Temple-এর মাধ্যমে Barrister হিসেবে যোগ্যতা অর্জন করেছেন। বাংলাদেশে আইন পেশায় প্রবেশের যোগ্যতা অর্জনের প্রক্রিয়াও তিনি চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জাতিসংঘের প্রোফাইলে উল্লেখ রয়েছে।
তবে এই নিয়োগকে কেন্দ্র করে দুটি বড় প্রশ্ন সামনে এসেছে—জাতিসংঘের সভাপতির কার্যালয়ে এই নিয়োগের প্রকৃতি ও অর্থায়ন কীভাবে হয় এবং বাংলাদেশে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে জাইমার যোগ্যতার অবস্থান কোথায়?
জাতিসংঘের ‘লিগ্যাল অফিসার’—আসলে কোন পদ?
প্রথমেই একটি বিষয় পরিষ্কার করা প্রয়োজন। জাইমা রহমানকে জাতিসংঘের স্থায়ী কর্মকর্তা বা UN Secretariat-এর নিয়মিত চাকরিজীবী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে—এমন তথ্য জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে নেই।
তিনি কাজ করছেন Office of the President of the General Assembly (OPGA)-তে। জাতিসংঘের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে তাকে সরাসরি “Legal Officer — Bangladesh” হিসেবে দেখানো হয়েছে।
এই অফিসটি সাধারণ পরিষদের সভাপতির এক বছরের মেয়াদের সঙ্গে সম্পর্কিত। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ২ জুন ২০২৬ তারিখে ৮১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হন এবং ৮ সেপ্টেম্বর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ৮১তম অধিবেশনের মেয়াদ এক বছর।
অর্থাৎ জাইমার বর্তমান পদটি ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির কার্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত, এটিকে জাতিসংঘের স্থায়ী ক্যারিয়ার পোস্ট হিসেবে উপস্থাপন করা সঠিক হবে না।
খলিলুর রহমানই কি জাইমাকে নিয়োগ দিয়েছেন?
এখানেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত বক্তব্যে দাবি করা হচ্ছে, সাধারণ পরিষদের সভাপতি ড. খলিলুর রহমান নিজেই জাইমা রহমানকে নিয়োগ দিয়েছেন।
তবে অনুসন্ধানে পাওয়া জাতিসংঘের অফিসিয়াল পেজ, বর্তমান OPGA টিম তালিকা এবং প্রকাশিত সংবাদগুলোতে এমন কোনো নথি পাওয়া যায়নি যেখানে বলা হয়েছে—খলিলুর রহমান ব্যক্তিগতভাবে জাইমা রহমানকে নিয়োগ দিয়েছেন।
বরং প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব কে এম নাজমুল হক বলেছেন, জাইমার ক্ষেত্রে জাতিসংঘের বিদ্যমান নিয়ম ও নিয়োগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, জাতিসংঘের বর্তমান টিম পেজে জাইমার পদটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং তার পেশাগত অভিজ্ঞতার বর্ণনাও দেওয়া হয়েছে।
তাই “খলিলুর রহমান নিজেই তার মেয়ের জন্য জাইমাকে নিয়োগ দিয়েছেন”—এটি বর্তমানে প্রমাণিত তথ্য হিসেবে লেখা যাবে না। নিয়োগের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের নথি প্রকাশ্যে না আসা পর্যন্ত এটি একটি রাজনৈতিক অভিযোগ বা প্রশ্ন হিসেবেই থাকবে।
তাহলে এই অফিসের খরচ কে বহন করে?
এখানেও সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত তথ্যের একটি অংশ সত্য, তবে বিষয়টি আরও জটিল।
জাতিসংঘের নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, Office of the President of the General Assembly পরিচালিত হয় একাধিক উৎস থেকে। নিয়মিত UN budget-এর পাশাপাশি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর স্বেচ্ছা অনুদানের মাধ্যমে OPGA Trust Fund-ও পরিচালিত হয়।
৮১তম অধিবেশনের জন্য প্রকাশিত বর্তমান Trust Fund তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন দেশ ইতোমধ্যে অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিশ্রুত অর্থ ২ লাখ মার্কিন ডলার, আর চীনের প্রতিশ্রুতি ৫ লাখ ডলার।
অতএব, OPGA-র কার্যক্রমে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন সদস্য রাষ্ট্রের অর্থায়নের অংশগ্রহণ রয়েছে—এটি নথিভুক্ত তথ্য।
কিন্তু এখান থেকে সরাসরি বলা যায় না যে জাইমা রহমানের ব্যক্তিগত বেতন বাংলাদেশ সরকার দিচ্ছে।
জাতিসংঘের অতীত OPGA-গুলোর প্রকাশিত তথ্যেও দেখা যায়, কোনো কোনো কর্মকর্তা সদস্য রাষ্ট্র থেকে secondment হিসেবে আসেন, আবার কেউ UN regular budget বা Trust Fund-এর মাধ্যমে যুক্ত হন।
জাইমার ক্ষেত্রে তিনি কোন অর্থায়ন কাঠামোর আওতায় রয়েছেন বা তার বেতন কে প্রদান করছে—এ বিষয়ে প্রকাশ্য নথিতে নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
আরেকটি প্রশ্ন: ৮১তম অধিবেশন শেষ হলে কী হবে?
খলিলুর রহমানের সভাপতিত্ব ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকেন্দ্রিক এবং এক বছরের জন্য। তিনি ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
ফলে বর্তমান OPGA-তে জাইমার পদটিও এই নির্দিষ্ট অধিবেশনের কার্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত।
তবে ভবিষ্যতে জাইমা অন্য কোনো UN পদে থাকবেন কি না, অথবা বর্তমান অফিসের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন কোনো দায়িত্ব পাবেন কি না—এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো প্রকাশ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।
দ্বিতীয় প্রশ্ন: বাংলাদেশে এখনো কি জাইমা ‘অ্যাডভোকেট’ নন?
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে—Barrister হওয়া এবং বাংলাদেশে Advocate হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়া এক বিষয় নয়।
জাইমা রহমান যুক্তরাজ্যে Barrister হিসেবে যোগ্যতা অর্জন করেছেন। কিন্তু বাংলাদেশে আদালতে Advocate হিসেবে প্র্যাকটিসের জন্য বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়।
২০২৬ সালের জুনে জাইমা রহমান বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের প্রথম ধাপের MCQ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। ওই পরীক্ষায় ৩৭ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী অংশ নেন এবং ৯ হাজার ২০১ জন পরবর্তী ধাপে যাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেন।
অর্থাৎ তিনি বাংলাদেশে এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে Advocate হিসেবে enrolment সম্পন্ন করেছেন—এমন তথ্য নেই। তিনি প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ পার করেছেন।
বার কাউন্সিলের পরীক্ষায় কী কী পড়তে হয়?
এখানে জাইমার পরীক্ষার বিষয়বস্তু নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তারও কিছু বাস্তব ভিত্তি রয়েছে।
বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের অফিসিয়াল সিলেবাস অনুযায়ী MCQ পরীক্ষায় রয়েছে।
Code of Civil Procedure (CPC)
Specific Relief Act
Code of Criminal Procedure (CrPC)
Penal Code
Evidence Act
Limitation Act
Professional Ethics, Bar Council Order & Rules এবং Legal Decisions
MCQ পরীক্ষার মোট নম্বর ১০০। এরপর রয়েছে ১০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা এবং পরবর্তী Viva-voce ধাপ।
অতএব, জাইমা বিদেশে আইন পড়েছেন বলে বাংলাদেশি আইন পড়ার প্রয়োজন নেই—এমন কোনো সুযোগ নেই। বাংলাদেশে Advocate হিসেবে তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশি আইন ও বার কাউন্সিলের পরীক্ষার কাঠামো অনুসরণ করতে হয়।
ছয় মাসের Pupilage নিয়ে আসল নিয়ম কী?
এই জায়গায় সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত দাবির সঙ্গে বাস্তব নিয়মের কিছু পার্থক্য রয়েছে।
বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের বর্তমান ওয়েবসাইটে “Pupilage Registration Form”-এর পাশাপাশি আলাদা করে “Registration Form for Attorney at Law or Barrister (Under Articles 60(i) Proviso of Bar Council Rules)” প্রকাশ করা আছে।
অর্থাৎ বিদেশে Barrister বা Attorney-at-Law হিসেবে যোগ্য ব্যক্তিদের জন্য বার কাউন্সিলের নিয়মে একটি পৃথক বিধান রয়েছে।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়েও Rule 60-এর অধীনে সাধারণভাবে ছয় মাসের pupilage-এর বিধান উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে জাইমা রহমান এই বিধানের আওতায় কোনো বিশেষ সুবিধা বা exemption পেয়েছেন কি না, অথবা তার ক্ষেত্রে ঠিক কোন প্রক্রিয়ায় MCQ পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া হয়েছে—এ বিষয়ে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের কোনো নির্দিষ্ট প্রকাশ্য ব্যাখ্যা এখনো পাওয়া যায়নি।
সুতরাং এখানে প্রশ্ন তোলা যায়, কিন্তু “তিনি নিয়ম ভেঙে পরীক্ষা দিয়েছেন”—এমন সিদ্ধান্তে যাওয়ার মতো প্রকাশ্য প্রমাণ বর্তমানে নেই।
‘ছয় মাস পূর্ণ হয়নি’—এই দাবিও সরাসরি প্রমাণিত নয়
জাইমা ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ বাংলাদেশে ফেরার পর যদি সেদিন থেকেই pupilage শুরু করে থাকেন—এমন একটি অনুমান থেকে বলা হচ্ছে যে ২০২৬ সালের জুনে তার ছয় মাস পূর্ণ হয়নি। কিন্তু এটি একটি অনুমান।
কারণ pupilage-এর সময় গণনা তার বাংলাদেশে ফেরার তারিখ থেকেই হবে—এমন কোনো নিয়ম নেই। বরং বিষয়টি নির্ভর করে বার কাউন্সিলের কাছে নিবন্ধিত pupilage contract, সংশ্লিষ্ট senior advocate এবং অনুমোদিত প্রক্রিয়ার ওপর।
আর জাইমা বিদেশে Barrister হিসেবে যোগ্যতা অর্জন করেছেন—এটিও প্রতিষ্ঠিত তথ্য।
তাই তার ক্ষেত্রে সাধারণ ছয় মাসের pupilage-এর কোন বিধান প্রযোজ্য হয়েছে, কিংবা কোনো বিশেষ বিধান প্রয়োগ হয়েছে কি না—এটি নিশ্চিত করতে বার কাউন্সিলের নথি প্রয়োজন।
জাইমার বাংলাদেশি আইনপেশার অভিজ্ঞতা আছে কি?
এখানেও প্রচারিত তথ্যের সঙ্গে জাতিসংঘের প্রকাশিত জীবনীতে পার্থক্য দেখা যাচ্ছে।
জাতিসংঘের অফিসিয়াল প্রোফাইলে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে জাইমা রহমান Syed Ishtiaq Ahmed & Associates-এর সঙ্গে constitutional, corporate and commercial law, public-private partnerships এবং taxation বিষয়ে কাজ করেছেন। তার বাংলাদেশি অভিজ্ঞতার মধ্যে legal advisory এবং social welfare/education law-এর pro bono কাজের কথাও উল্লেখ রয়েছে।
তাই “২০২২ সালের পর তিনি কোনো ল ফার্মে কাজ করেননি”—এমন দাবি দিয়ে তার পেশাগত অভিজ্ঞতা সম্পূর্ণ অস্বীকার করার মতো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
তবে এই অভিজ্ঞতার সময়কাল, দায়িত্বের ধরন এবং তিনি ঠিক কতদিন ওই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন—এসব বিষয়ে আরও বিস্তারিত নথি প্রকাশিত হলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে।
তাহলে মূল বিতর্ক কোথায়?
জাইমা রহমানের ক্ষেত্রে বর্তমানে তিনটি বিষয় আলাদা করে দেখা প্রয়োজন।
১. জাতিসংঘে নিয়োগ
এটি প্রমাণিত তথ্য। জাতিসংঘের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে তাকে ৮১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ের Legal Officer হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
২. রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য হিসেবে নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন
জাইমা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা এবং তার নিয়োগ এমন একটি কার্যালয়ে হয়েছে যার সভাপতি বাংলাদেশ সরকারের মনোনীত প্রার্থী ড. খলিলুর রহমান। খলিলুর রহমান নিজেই তার নির্বাচনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে তার মনোনয়নের জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
এই প্রেক্ষাপটে স্বজনপ্রীতি বা প্রভাব খাটানোর প্রশ্ন রাজনৈতিকভাবে উঠতে পারে। কিন্তু জাইমার নিয়োগে কোনো নিয়ম ভাঙা হয়েছে বা তার পিতার রাজনৈতিক ক্ষমতা সরাসরি নিয়োগে ব্যবহার হয়েছে—এমন প্রমাণ প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।
৩. বাংলাদেশ বার কাউন্সিল
জাইমা এখনো বাংলাদেশে পূর্ণাঙ্গ Advocate হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছেন—এমন তথ্য নেই। তিনি জুন ২০২৬-এ MCQ ধাপ পাস করেছেন।
তবে বিদেশে Barrister হিসেবে তার যোগ্যতা এবং বার কাউন্সিলের নিজস্ব ওয়েবসাইটে Barrister/Attorney-at-Law প্রার্থীদের জন্য পৃথক ফর্ম থাকায় ছয় মাসের pupilage নিয়ে সরলভাবে ‘নিয়ম ভঙ্গ’ বলা যায় না।
প্রশ্নগুলো তাহলে কী?
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—জাইমা রহমানের নিয়োগের ক্ষেত্রে ঠিক কী প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে?
তার pupilage registration কবে হয়েছে?
কোন senior advocate-এর অধীনে হয়েছে?
তিনি কি সাধারণ ছয় মাসের pupilage করেছেন?
নাকি Barrister হিসেবে Rule 60-এর বিশেষ বিধান প্রযোজ্য হয়েছে?
তার MCQ পরীক্ষায় অংশগ্রহণের eligibility কোন নথির ভিত্তিতে নিশ্চিত করা হয়েছে?
পরবর্তী লিখিত ও Viva পরীক্ষার ক্ষেত্রে তার অবস্থান কী?
আর জাতিসংঘের নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রশ্ন?
জাইমার নিয়োগের selection process কী ছিল?
পদটি কি UN regular budget, Trust Fund, secondment নাকি অন্য কোনো ব্যবস্থায় অর্থায়িত?
তার নির্দিষ্ট remuneration package কী?
কতজন প্রার্থী থেকে তাকে নির্বাচন করা হয়েছে?
নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো formal recruitment notice বা selection record প্রকাশ করা হয়েছিল কি না?
এসব প্রশ্নের উত্তর জাতিসংঘের OPGA এবং বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পাওয়া গেলে বিতর্কটির প্রকৃত চিত্র আরও পরিষ্কার হবে।
—
শেষ কথা
জাইমা রহমানের জাতিসংঘের সভাপতির কার্যালয়ে Legal Officer হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া বাস্তব এবং জাতিসংঘের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে নথিভুক্ত ঘটনা। একইভাবে তিনি বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ২০২৬ সালের MCQ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন—এটিও প্রতিষ্ঠিত তথ্য।
কিন্তু এর সঙ্গে ‘জাতিসংঘের চাকরি পুরোপুরি বাংলাদেশের জনগণের টাকায়’, ‘খলিলুর রহমান ব্যক্তিগতভাবে তাকে নিয়োগ দিয়েছেন’, কিংবা ‘বার কাউন্সিলের ছয় মাসের নিয়ম ভেঙে তাকে পরীক্ষায় বসানো হয়েছে’—এই দাবিগুলোকে বর্তমানে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার মতো প্রকাশ্য নথি পাওয়া যাচ্ছে না।
বরং প্রকাশ্য নথি বলছে, OPGA-র অর্থায়ন একটি বহুমুখী কাঠামোর মাধ্যমে হয়, আর বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নিয়মে Barrister/Attorney-at-Law প্রার্থীদের জন্য পৃথক বিধান রয়েছে।
ফলে বিতর্কের কেন্দ্র হওয়া উচিত অভিযোগকে সত্য ধরে নেওয়া নয়; বরং নিয়োগের প্রক্রিয়া, অর্থায়নের ধরন এবং বার কাউন্সিলের যোগ্যতা যাচাইয়ের নথি প্রকাশের দাবি। এ তথ্যগুলো প্রকাশিত হলে জাইমা রহমানের নিয়োগ নিয়ে ওঠা প্রশ্নগুলোর নিরপেক্ষভাবে নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে।