
অনলাইন ডেস্ক,
নিজস্ব প্রতিবেদক,
নেত্রকোণায় এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়াকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) রাতে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার অচিন্তপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে র্যাব-১৪-এর একটি দল তাকে আটক করে। পরে তাকে নেত্রকোণা সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়।
র্যাব সূত্রে জানা গেছে, মামলাটি দায়েরের পর থেকেই রিপন মিয়া আত্মগোপনে ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তার অবস্থান নিশ্চিত হয়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়। গ্রেফতারের পর আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ৩০ জুলাই নেত্রকোণায় এক কিশোরীকে জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে। ঘটনার সময় ভুক্তভোগীর চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্ত পালিয়ে যান। পরে ভুক্তভোগীর বাবা নেত্রকোণা সদর থানায় মামলা দায়ের করেন।
গ্রেফতারের পর এলাকায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেছেন, রিপন মিয়া দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। তাদের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাজের সুযোগ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বা ভিডিও নির্মাণের কথা বলে তরুণী ও উঠতি বয়সী মেয়েদের ডেকে এনে নানা ধরনের ভয়ভীতি ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
তবে এসব অভিযোগের অনেকগুলোর বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত শেষ হয়নি এবং আদালতে প্রমাণিতও হয়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, রিপন মিয়ার গ্রেফতারের পর কয়েকজন নারীও পুলিশের কাছে বিভিন্ন অভিযোগ দিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এসব অভিযোগও তদন্তাধীন রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযুক্তের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষ প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ব্যবহার করে অপরাধ সংঘটনের প্রবণতা রোধে ইতিবাচক বার্তা যাবে এবং ভবিষ্যতে এমন অপরাধ নিরুৎসাহিত হবে।
এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।